বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং, রাত ৮:০৯
শিরোনাম :
বরিশালে সাগরদী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনকে ফের হয়রানী, সুষ্ঠু তদন্ত দাবি! ২৮ অক্টোবর ইতিহাসের এক জঘন্যতম কালো অধ্যায়: অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম খসরু সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সরকারের: আইসিটি মন্ত্রী সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ ও ডিজিটাল সচেতনতায় নলছিটিতে সংলাপ অনুষ্ঠিত বরিশালে সুদ ও তাবিজ বিতর্কে মসজিদের ইমাম: পরিবর্তনের দাবি দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর :কনস্যুলেটের দুর্বলতা ছিল কিনা,জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি ইরাকের কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপান যাচ্ছেন আমজনতার তারেক মক্কা ও জেদ্দায় সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব

১০ দিন ধরে ঝালকাঠি পৌরসভার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নাগরিক সুবিধা ব্যাহত

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:ঢাকায় সারাদেশের পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে ১০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে ঝালকাঠি পৌরসভার সকল কার্যক্রম। এতে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী। গত ১০ দিনে ময়লার স্তুপ জমে আছে শহরের বিভিন্ন স্থানে। পয়োনিস্কাশনেও দূরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জন্মনিবন্ধন সনদ নিতে এসেও ফিরে যাচ্ছেন অনেকে। শিশুর টিকা দিতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন অভিভাবকরা।

জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে শতভাগ বেতন ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকায় টানা ১০দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ঝালকাঠি পৌরসভার ৪০জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তাঁরা ঢাকায় অবস্থান করায় ঝালকাঠি পৌরসভার সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এতে পৌরবাসী নাগরিক সেবাসহ সবধরনের সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টায় ঝালকাঠি পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, পৌর ভবনের সামনে ময়লা-আবর্জনার গাড়িগুলো সাড়িবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে রাখা। পৌর মেয়র ও কয়েকজন কাউন্সিলর অফিসে থাকলেও অন্য সকল শাখার কক্ষগুলোতে তালা ঝুলছে। এসময় নাগরিক সনদ, জন্মনিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স করাতে আসা লোকজন কক্ষগুলো তালাবদ্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ আবার পানির বিল পরিশোধ করতে এসে কাউকে না পেয়ে চলে যাচ্ছেন।

পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লিলি বেগম এসে ছিলেন তাঁর শিশু সন্তান নিয়ে টিকা দিতে। টিকা প্রদানের কক্ষটি তালাবদ্ধ থেকে তিনি হতাশ হন। তিনি বলেন, আমার এক বছরের ছেলেকে টিকা প্রদানের জন্য এসেছি। এখন দেখছি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেউ নেই। এদিকে টিকা দানের সময়ও চলে যাচ্ছে। আমি মারাত্মক সমস্যায় ভুগছি।

কামাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমি লাইসেন্স নবায়ন করতে এসেছি, কিন্তু পৌরসভায় কেউ না থাকায় কাজটি হয়নি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় আছেন, কবে আসবে তাও জানি না। আমার লাইসেন্স নবায়ন না থাকায় কোন কাজ করতে পারছি না।

শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র তুলতে হলে নাগরিক সনদপত্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু নাগরিক সনদপত্র না পাওয়ায়, জাতীয় পরিচয়পত্র তুলতে পারছি না।

এদিকে টানা ১০দিন ধরে পৌরসভার কর্মচারীরা শহরের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ না করায় বিভিন্ন স্থানে ময়লার স্তুপ জমে আছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন পৌরবাসী। অনেক স্থানে ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকার মো. মিলন বলেন, রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। ১০দিনে পৌরসভার কোন কর্মচারীকে এগুলো পরিস্কার করতে দেখিনি। এখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। খবর নিয়ে জানতে পারলাম, তারা ঢাকায় কর্মসূচি পালন করছেন। অথচ আমারা দুর্গন্ধ সহ্য করছি।

ঝালকাঠি পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারী বলেন, আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত ঢাকা থেকে ফিরবো না। পৌরসভার সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সরকার যদি দাবি মেনে নেয়, তাহলে আমরা ঘরে ফিরে আসবো। পৌরবাসীর অসুবিধার জন্য আমরা দুঃখিত।

ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি যৌক্তিক। আমাদের পৌরসভা থেকে ৪০জন স্টাফ ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচী পালনের জন্য গেছেন। এজন্য সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে।